সমকামীদের অধিকার নিয়ে লেখালেখি করা ব্লগার ও লেখক সাজিব আহমেদ রাথিন এবং তার প্রকাশিত বই “আমাদের পরিচয়ের অধিকার”-এর প্রকাশকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
২৭ এপ্রিল দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাজিব আহমেদ রাথিন তার বই ও ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
সাজিব আহমেদ রাথিন অবশ্য অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো ধর্ম বা ধর্মাবলম্বী মানুষকে অপমান করার উদ্দেশ্যে লেখেননি। সমকামী মানুষের অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্মীয় মৌলবাদ, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি লেখালেখি করেছেন।
আলোচনায় ‘আমাদের পরিচয়ের অধিকার’
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত “আমাদের পরিচয়ের অধিকার” বইয়ে সমকামী কিশোর ও তরুণদের জীবন, সামাজিক বৈষম্য, পরিচয়, নিরাপত্তা এবং মানবিক মর্যাদার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন লেখক।
বইটি প্রকাশের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন মহলের সমালোচনা ও হুমকির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করে আসছেন।
তার ব্যক্তিগত ব্লগেও সমকামীদের অধিকার এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
লেখকের বিরুদ্ধে আগেও হুমকির অভিযোগ
রাথিনের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে তাকে ব্লগে লেখালেখি বন্ধ করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও হামলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, ১৭ মার্চ কলেজ থেকে ফেরার পথে তার ওপর হামলা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি হাসপাতাল ছাড়েন।
এর আগে তার ছোট ভাই সাব্বির আহমেদের ওপরও হামলা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল।
এসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমান মামলার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আত্মগোপনে থাকার দাবি
নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে নিজের বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন সাজিব আহমেদ রাথিন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার বাড়িতেও একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে এবং তার বাবা-মা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলার খবর জানার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঘটনাটি নিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অনুভূতি এবং সংখ্যালঘু যৌন পরিচয়ের মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
রাথিনের বক্তব্য, “আমার লেখার সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে তার জবাব লেখা ও যুক্তির মাধ্যমে দেওয়া উচিত। মতপ্রকাশের কারণে কাউকে হুমকি বা সহিংসতার মুখে পড়তে হওয়া উচিত নয়।”
মামলার অভিযোগ এবং এর আইনি ভিত্তি আদালতে যাচাই হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।